ব্রীফ পেয়ে রিসার্চ না করে সাথে সাথে লোগো ডিজাইন করা মারাত্মক ভুল। লোগো করার আগে ব্র্যান্ডের গল্প রিসার্চ করতে হয়। ব্র্যান্ড ডিজাইন কোন ভাবে ই হাল্কা কোন বিষয় না। এর উপর কয়েকটা মোটা মোটা বই লিখে ফেলা সম্ভব।
অনেকেই মনে করে কিছু উপাদান হলে ই ব্র্যান্ড হয়ে যাবে যেমন, কালার, টেক্সট বিভিন্ন ধরনের ফন্ট, লোগো, স্লোগান, স্টেশনারি, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, প্যাকেজিং ইত্যাদি কিন্তু বাস্তবে ব্র্যান্ড এর ব্যাপারটা এতোটা সহজ না। মোটা দাগে ব্র্যান্ড হল একটা কোম্পানি যা ধারন করে, এবং একটা কোম্পানি যা উৎপাদন করে তার সব কিছুর প্রতিফলন হতে হবে তাদের কাজে এবং তাদের লক্ষ্যে।
তারা কি? তারা কি করতে চায়, তারা কিভাবে করতে চায়, এই ব্যাপারগুলি যখন অডিয়েন্স এর কাছে যাবে, অডিয়েন্স গ্রহন করবে এবং এভাবে ই একটা ব্র্যান্ড গড়ে উঠবে। এখানে বলতে হয় একজন ডিজাইনার কখনই একটা ব্র্যান্ড বানাতে পারে না, ব্র্যান্ড বানায় অডিয়েন্স, ডিজাইনার শুধু সেই ব্র্যান্ড এর ভিত্তিটা করে দিতে পারে।
ডিজাইনারকে কম দেখিয়ে বেশি ইমপ্যাক্ট তৈরি করা শিখতে হবে। প্রতিটি ডিজাইনের একটি উদ্দেশ্য থাকতে হবে। শুধু সুন্দর লাগছে বলে নয়, এই ডিজাইন ব্র্যান্ডের কোন সমস্যা সমাধান করছে, সেটাই আসল প্রশ্ন। ব্র্যান্ডকে আলাদা করার জায়গা খুঁজে বের করা খুব জরুরি। মার্কেটে সবাই একই রকম হলে আলাদা করে চোখে পড়ার সুযোগ নেই।
আমাদের দেশের দুইটা বড় বড় মোবাইল কোম্পানি। গ্রামীন ফোন এবং রবি। এরা কিভাবে ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে উঠল? তাদের টার্গেট ছিল আমাদের দেশের জনগন। তাই প্রথমেই বুঝতে হবে ব্র্যান্ডিং এ একটা টার্গেট থাকে। এখন কথা হল আমাদেরকে কিভাবে আকৃষ্ট করা যায় সেটা বের করা।
গ্রামীন ফোন, রবি এসব কোম্পানি আমাদের দেশ, সংস্কৃতি, মানুষের জন্য মানুষ এর ভালবাসা এগুলি তুলে ধরেছে। আর আমরা আবেগ প্রবণ জাতি তাই এগুলি আমাদের আকর্ষণ করে, এই ভাবেই একটা কোম্পানি তার নির্দিষ্ট একটা জনগোষ্ঠী কাছে ব্র্যান্ড গড়ে তুলে। আর শুধু এগুলি দিয়ে তো আর হয় না। মান সম্মত সার্ভিস ও জরুরি। এখানে জনগনের দৃষ্টিভঙ্গিটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যখন কোন মোবাইল কিনতে গেলেই বলি অমুক কোম্পানির মোবাইল কিনব, ঘড়ি কিনতে গেলে অমুক কোম্পানির ঘড়ি ভাল তখন বুঝা যায় যে সেই কোম্পানি তার ব্র্যান্ড সফল ভাবে বানাতে পেরেছে। আর সেগুলি কিন্তু একদিন এ হয় নাই। তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে ই এতদূর আসতে পেরেছে। আপনিও কখনো রাতারাতি ব্র্যান্ড ডিজাইনার হয়ে যাবেন না। তবে আস্তে আস্তে আপনার পজিশনিং পরিবর্তন করুন।
প্রতিদিন নতুন কিছু শিখুন, সেটার গভীরে ডুব দেন, দেখবেন এমন কিছু পাবেন যেটা অন্যরা জানেনা। আপনি ভালো করে শেখার পর সেগুলো আপনার অডিয়েন্সের কাছে শেয়ার করতে থাকুন। অডিয়েন্স উপকার পেলে আপনাকে আর কখনোই ভুলবে না, ক্লায়েন্টও আপনাকে ট্রাস্ট করবে অন্যদের চেয়ে বেশি। আপনার সম্পর্কে আপনার অডিয়েন্স যতো বেশি জানবে এবং আপনার কাছে ভ্যালু পাবে, অটোমেটিক আপনি তাদের পছন্দের একজন হয়ে উঠবেন। ধৈর্য্য ধরে ধারাবাহিক ভাবে পরিশ্রম করে লেগে থাকলে একসময় দেখবেন আপনি আপনার সিলেক্টেড নীশের অন্যতম একজন ব্র্যান্ড হয়ে উঠবেন।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে উপকারী জ্ঞান, হালাল রিজিক এবং কবুলযোগ্য আমল করার তৌফিক দিন,,,আমিন।

Comments
1Thanks for sharing your valuable words